বহুব্রীহি পর্ব ( ৪)- হুমায়ূন আহমেদ

মেয়েটি অবাক হয়ে বলল, আমাকে বলছেন?  মেয়েটির চোখে অপরিচিতের দৃষ্টি। লজ্জায় এবং দুঃখে মনসুরের চোখে প্রায় পানি এসে গেল। আর তখন মেয়েটি বলল, ‘ও আচ্ছা আপনি গ্রীণ ফার্মেসীর ডাক্তার সাহেব। জ্বি আমি ভাল। মনসুর হড়বড় করে বলল, আপনার মায়ের সেই কাটাটা কি সেরেছে?  মেয়েটি এই প্রশ্নে কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল। তারপর… Continue reading বহুব্রীহি পর্ব ( ৪)- হুমায়ূন আহমেদ

বহুব্রীহি পর্ব ( ৩)- হুমায়ূন আহমেদ

 আলিশান দালান তুলতে হবে––  ‘আমার এত সব দরকার নেই। আমি সুখেই আছি। ‘সুখে আছ? ‘য় সুখে। মনসুর আসলেই সুখে আছে। তার উপর সংসারের দায় দায়িত্ব কিছু নেই। তার বাবা ময়মনসিংহ শহরে ওকালতী করেন। দেশের বাড়ির অবস্থা মন্দ নয়। ময়মনসিংহের এত বড় বাড়িতে মানুষ বলতে বাবা–মা এবং ছােট বােন নীলিমা। মনসুরকে টাকা রােজগার করে সংসার চালানাের… Continue reading বহুব্রীহি পর্ব ( ৩)- হুমায়ূন আহমেদ

বহুব্রীহি পর্ব ( ২)- হুমায়ূন আহমেদ

এম, এ পড়া মানে শুধু শুধু সময় নষ্ট। বর্তমানে তার দিন কাটছে ঘুমিয়ে। অল্প যে কিছু সময় সে জেগে থাকে সেই সময়টায় সে ছবি দেখে। অধিকাংশই আর্ট ফ্লিম। কোন কোন ছবি ছ‘সাতবার করেও দেখা হয়। বাকি জীবনটা সে এই ভাবেই কাটিয়ে দিতে চায় কিনা জিজ্ঞেস করলে অত্যন্ত উচ্চ মার্গের একটা হাসি দেয়। সেই হাসি অতি… Continue reading বহুব্রীহি পর্ব ( ২)- হুমায়ূন আহমেদ

বহুব্রীহি পর্ব ( ১)- হুমায়ূন আহমেদ

ভূমিকা বহুব্রীহি নাম দিয়ে একটি টিভি সিরিয়েল লিখেছিলাম, এই বহুব্রীহিকে সেই টিভি সিরিয়েলের উপন্যাস রূপান্তর মনে করা ঠিক হবে না। আমি যা করেছি তা হচ্ছে মূল কাঠামাে ঠিক রেখে একটা মজার উপন্যাস লেখার চেষ্টা। কিছু অন্য ধরনের কথা হাসি তামশার মাঝখানে আছে। আশা করছি সেই সব কথা রঙ্গ রসিকতায় পুরােপুরি ঢাকা পড়বে না। কিছু না… Continue reading বহুব্রীহি পর্ব ( ১)- হুমায়ূন আহমেদ

দেয়াল শেষ পর্ব- হুমায়ূন আহমেদ

কারণ খাসির সালুন অসাধারণ স্বাদ হয়েছিল। হাফেজ জাহাঙ্গীর বললেন, তােমাকে দেখে অবাক হয়েছি। তুমি একা চলে এসেছ।  অবন্তি বলল, আমি একা তাে আসি নাই। আমার সঙ্গে দুইজন চড়নদার  ছিল।  জাহাঙ্গীর অবাক হয়ে বললেন, বলাে কী ? তারা পুরুষ?  অবন্তি হাই তুলতে তুলতে বলল, তারা পুরুষও না, রমণীও না। তাঁরা দুজন ফেরেশতা। সব মানুষের কাঁধে বসে… Continue reading দেয়াল শেষ পর্ব- হুমায়ূন আহমেদ

দেয়াল শেষ পর্ব- হুমায়ূন আহমেদ

চড়নদার লাগবে কেন? আমি তােক নিয়ে যাব। তােকে আমি চড়নদারের সঙ্গে ছাড়ব না। আমি তােমাকে নেব না। প্রয়ােজনে একা যাব, কিন্তু তােমাকে নেব না। চড়নদারটা কে ? আমাদের মাস্টার ?  হতে পারে। সম্ভাবনা আছে। উনি যদি আমার সঙ্গে না যান, তাহলে একাই যাব।  তাের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে, তাের চিকিৎসা দরকার।  অবন্তি বলল, ঠিক বলেছ।… Continue reading দেয়াল শেষ পর্ব- হুমায়ূন আহমেদ

দেয়াল(পর্ব-১৫)- হুমায়ূন আহমেদ

ঠাট্টা ঠাট্টা গলায় কথা বলছ কেন দাদাজান? পুলিশের এসপি হয়ে তুমি যেমন কর্মীপুরুষ, রাস্তার মােড়ে যে প্রৌঢ়া সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একমনে ইট ভাঙে সেও কমীমহিলা। দরজায় কড়া নড়ছে। সরফরাজ নিজেই দরজা খুলতে গেলেন। এই সময় পিয়ন আসে। পিয়নের হাত থেকে চিঠি সংগ্রহ করা তিনি অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ মনে করেন । চিঠি পড়ার পর যার… Continue reading দেয়াল(পর্ব-১৫)- হুমায়ূন আহমেদ

দেয়াল(পর্ব-১৪)- হুমায়ূন আহমেদ

দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় সরফরাজের ঘর অন্ধকার। কিছুদিন হলাে তাঁকে অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে, কারণ তাঁর চোখ উঠেছে। আলাের দিকে তাকালেই চোখ কড়কড় করে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশের সব মানুষের চোখে এই রােগ হয়েছিল। তখন রােগের নামকরণ হয়েছিল জয়বাংলা রােগ’। সরফরাজ খানের তখন এই রােগ হয় নি, এখন হয়েছে। মানসিক টেনশনের সঙ্গে কি এই রােগের কোনাে যােগ আছে… Continue reading দেয়াল(পর্ব-১৪)- হুমায়ূন আহমেদ

দেয়াল(পর্ব-১৩)- হুমায়ূন আহমেদ

ফারুক আনন্দে অভিভূত হলেন। কারণ, আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমেছে। ঝুম বৃষ্টি। তাঁর ইচ্ছা করছে জিপ থামিয়ে কিছুক্ষণ রাস্তায় নেমে বৃষ্টিতে ভিজেন। তিনি বৃষ্টিবিষয়ক একটি বিখ্যাত কবিতা মনে করার চেষ্টা করছেন। কিছুতেই মনে পড়ছে । শুধু একটা লাইন মনে আসছে-বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান।  খন্দকার মােশতাকের আগামসি লেনের বাড়ির দোতলায় মেজর রশীদ বসে আছেন।… Continue reading দেয়াল(পর্ব-১৩)- হুমায়ূন আহমেদ

দেয়াল(পর্ব-১২)- হুমায়ূন আহমেদ

বলেন কী স্যার!  আমি তােমাকে সত্যি কথা বলছি। ভালাে কথা, আমিও যে পীরবংশের সন্তান তা কি জানাে ?  জি-না স্যার।  আমি পীরবংশের। বংশের ধারা অনুযায়ী আমি এখন গদিনশীন পীর। অথচ আমার কোনােই ক্ষমতা নেই। এটা একটা আফসােস। তবে আফসােস থাকা ভালাে। মানুষ একমাত্র প্রাণী যে পুরােপুরি সফল জীবন পার করার পরেও আফসােস নিয়ে মৃত্যুবরণ করে। … Continue reading দেয়াল(পর্ব-১২)- হুমায়ূন আহমেদ