আমাকে কোলে করে গাড়ি পর্যন্ত নিতে পারবেতো? আমার ওজন বেশী না। এইটি নাইন পাউন্ডস। খুবই পানির পিপাসা পেয়েছে। তুমি গাড়িতে উঠেই ঠাণ্ডা এক বোতল পানি কিনে আনবে। বড় বোতল আনবে না। ছোট বোতল আনবে। যাতে আমি একাই পুরো বোতল শেষ করতে পারি।এত কথা বলছ কেন? যাতে অজ্ঞান হয়ে না যাই এইজন্যই এত কথা বলছি। অজ্ঞান… Continue reading চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস পর্ব – ৫ হুমায়ূন আহমেদ
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস পর্ব – ৪ হুমায়ূন আহমেদ
অশোক বাবুকে তার বিয়ের কথাটা বলতে হবে। অনেক দিনতো সে মফস্বলে মফস্বলে ঘুরল এখন যদি তাকে হেড অফিসে ট্রান্সফার করা হয়। এতে অবশ্যি তার রোজগার কমে যাবে। টিএ বিল পাবে না। না পাওয়া গেলে নাই। আসমানীর সঙ্গে থাকা এটাই কম কি? অশোক বাবু ফরহাদের কথা শুনলেন। বিয়ে ঠিক হয়েছে শুনে বললেন—কনগ্রাচুলেশন। ঐ মেয়েটির সঙ্গেই কি… Continue reading চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস পর্ব – ৪ হুমায়ূন আহমেদ
চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস পর্ব – ৩ হুমায়ূন আহমেদ
মেয়ের প্রেমিককে অপছন্দ করা সাধারণ নিয়মের মধ্যে পড়ে। তাই বলে এত অপছন্দ? সে রাজপুত্র না, তার চেহারা পিটার ও টুলের মত না, বিদেশী কোম্পানীর ভাইস প্রেসিডেন্টও সে না। তারপরেও একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষ সামাজিক সৌজন্য বজায় রাখবে না? তার মেয়ে আজেবাজে টাইপের একটা ছেলেকে পছন্দ করেছে এই কারণে তিনি যদি রাগ করে থাকেন, সেই… Continue reading চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস পর্ব – ৩ হুমায়ূন আহমেদ
চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস পর্ব – ২ হুমায়ূন আহমেদ
ফরহাদের গোসল শেষ হয়েছে। টিউবওয়েলের পানি বরফের মত ঠাণ্ডা। ঠাণ্ডা পানিতে দীর্ঘ গোসলের পর শরীর ঝরঝরে হয়ে গেছে। ঘুম ঘুম ভাব একেবারেই নেই। ক্ষিধে মরে গিয়েছিল—সেই ক্ষিধে জাগিয়ে উঠেছে। তার কাছে মনে হচ্ছে সে এক গামলা ভাত খেয়ে ফেলতে পারবে।রাহেলা বেগম বিরাট এক কাতল মাছের মাথা ছেলের পাতে তুলে দিয়ে মিচকি মিচকি হাসতে লাগলেন। ফরহাদ… Continue reading চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস পর্ব – ২ হুমায়ূন আহমেদ
চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস- হুমায়ূন আহমেদ
কোম্পানীর বড় সাহেবের পাশে গাড়িতে চড়া ভয়াবহ কষ্টের ব্যাপার। মানসিক কষ্ট, শারিরীক কষ্ট। চার ঘন্টা ধরে এই কষ্টটাই ফরহাদ করছে। বড় সাহেবের গাড়িতে রংপুর থেকে ঢাকা আসছে। বড় সাহেব সীটে হেলান দিয়ে আছেন। চোখ বন্ধ, তবে তিনি ঘুমুচ্ছেন না। গান শুনছেন। মাঝে মাঝে আংগুলে তাল দিচ্ছেন। ফরহাদ তার পাশে কাঠ হয়ে বসে আছে। তার প্রচন্ড… Continue reading চৈত্রের দ্বিতীয় দিবস- হুমায়ূন আহমেদ
নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ
আড়াইটার সময় খেলা শুরু হবে, আমরা সাড়ে ১২টার সময় ঘর থেকে বের হলাম। স্টেডিয়ামে ঢুকতে হলে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে, নিরাপত্তা চেকিং, আগেভাগে যাওয়াই ভালো।স্টেডিয়ামে ঢোকার পথের রাস্তায় কোনো যানবাহন চলছে না। শত শত মানুষ হাঁটাহাঁটি করছে। এদের হাতে টিকিট নেই। যেখানে খেলা হবে, তার আশপাশেই থাকতে পারার আনন্দেই তারা অভিভূত। রাস্তায় প্রচুর তরুণ-তরুণীকে দেখা… Continue reading নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ শেষ – পর্ব হুমায়ূন আহমেদ
নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ পর্ব – ৪ হুমায়ূন আহমেদ
স্লোয়ান কেটারিংয়ের ডাক্তার আমার সিগারেট খাওয়া নিয়ে কিছুই বললেন না। আমি খানিকটা কনফিউজড হয়ে গেলাম। তবে কেমোথেরাপি শুরুর আগের দিন আমাকে হাসপাতালে ডাকা হলো। তারা বলল, আমার চামড়া কেটে তার ভেতর একটি নিকোটিন রিলিজিং যন্ত্র ঢুকিয়ে দেওয়া হবে। শরীর যখন নিকোটিনের জন্য কাতর হবে, তখন যন্ত্র নিকোটিন রিলিজ করবে। খুব ধীরে ধীরে নিকোটিনের পরিমাণ যন্ত্র… Continue reading নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ পর্ব – ৪ হুমায়ূন আহমেদ
নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ পর্ব – ৩ হুমায়ূন আহমেদ
এই মেয়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে ইকোনমিকসে অনার্স এবং এমএতে প্রথম শ্রেণী পেয়ে আমেরিকায় কী যেন পড়ছে। আমি জানি না।আমার ধারণা, এই মেয়েটি অসম্ভব রূপবতী বলেই খানিকটা বোকা। তার বালিকা বয়সে আমি যখন বাইরে কোথাও যেতাম, সে আমার সঙ্গে একটি হোমিওপ্যাথিক ওষুধের শিশি দিয়ে দিত। এই শিশিতে নাকি তার গায়ের গন্ধ সে ঘষে ঘষে ঢুকিয়েছে। তার… Continue reading নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ পর্ব – ৩ হুমায়ূন আহমেদ
নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ পর্ব – ২ হুমায়ূন আহমেদ
একসময় স্কুলের ২৬০টি কাচের জানালা ভেঙে পড়ল। লাইব্রেরি ঘর হিসেবে যেটা বানানো হয়েছিল, সেখানে নেশাখোরেরা গাঁজা খাওয়ার আসর বসাল। স্কুলের মাঠে সরিষা বুনে দেওয়া হলো। স্কুলের চারপাশের লোহার খুঁটিগুলো তুলে গ্রামের মানুষেরাই সের দরে বাজারে বেচে দিল। স্কুল ভবন গরু-ছাগল রাখার স্থায়ী নিবাসে পরিণত হলো। এক রাতে খেতে বসেছি। আমার মা দুঃখিত গলায় বললেন, তোকে… Continue reading নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ পর্ব – ২ হুমায়ূন আহমেদ
নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ পর্ব – ১ হুমায়ূন আহমেদ
উবাস্তে ইয়ামা ‘উবাস্তে’র অর্থ ময়লা, ইংরেজিতে গারবেজ। ‘ইয়ামা’ শব্দের অর্থ পর্বত। জাপানি এই শব্দ দুটির অর্থ—যে পর্বতে ময়লা ফেলা হয়। প্রাচীন জাপানের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে লালন-পালন করার সামর্থ্য ছিল না। একটা পর্যায়ে তারা পিঠে করে বাবা-মাকে নিয়ে পর্বতের খাদে ফেলে দিয়ে আসত। সবার কাছে এটাই ছিল স্বাভাবিক। পিঠে চড়া বৃদ্ধ পিতা-মাতার হাতে গাছের একটি… Continue reading নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ পর্ব – ১ হুমায়ূন আহমেদ