পুষ্প বলল, বাবা এখন কি উনাকে খাবার দিয়ে আসবে? এগারােটা বাজতে পাঁচ মিনিট বাকি। খাবার গরম করব? মােফাজ্জল করিম বিছানায় শুয়ে ছিলেন।সারাদিনের ক্লান্তিতে তার তন্দ্রার মত এসে গিয়েছে। মেয়ের কথায় উঠে বসলেন। ‘খাবার গরম করব বাবা? ‘করে ফেল। “তােমার কি শরীর খারাপ করেছে? ‘মন খারাপ নাকি বাবা ?” করিম সাহেব বিস্মিত হয়ে বললেন, মন খারাপ… Continue reading নীল অপরাজিতা-পর্ব-(৬)-হুমায়ূন আহমেদ
Author: Admin
নীল অপরাজিতা-পর্ব-(৫)-হুমায়ূন আহমেদ
আমার দাদাজান সেই আমলে লাখপতি হয়ে বাড়ি বানিয়েছিলেন, তারপর অপঘাতে মারা গেলেন। অবস্থা পড়ে গেল। এই বাড়িটা ছাড়া — এখন আমাদের আর কিছুই নাই। বাড়িটাও হয়েছে বাসের অযােগ্য। আমি নীচের তিনটা ঘরে থাকি। উপরটা তালাবন্ধ থাকে। আপনার জন্যে উপরের একটা ঘর ঠিক ঠাক করে রেখেছি। ‘বাড়ির চারদিকে কি এক সময় কদম গাছ ছিল? ‘জ্বি না। একটা কদম গাছ… Continue reading নীল অপরাজিতা-পর্ব-(৫)-হুমায়ূন আহমেদ
নীল অপরাজিতা-পর্ব-(৪)-হুমায়ূন আহমেদ
থাকার জায়গা আহামরি ধরনের হবে এ জাতীয় ধারণা শওকত সাহেবের ছিল না। অজ পাড়াগায়ে রাজপ্রাসাদ থাকার কোনই কারণ নেই। তবে বজলুর রহমান যিনি এই জায়গার খোজ তাঁকে দিয়েছেন, তিনি বার তিনেক উচ্ছ্বসিত গলায় বলেছেন, আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন। এত সুন্দর বাড়ি যে কল্পনাও করতে পারবেন না। শওকত সাহেব হাসতে হাসতে বললেন, তাজমহল ধরনের বাড়ি? ‘তাজমহলতাে… Continue reading নীল অপরাজিতা-পর্ব-(৪)-হুমায়ূন আহমেদ
নীল অপরাজিতা-পর্ব-(৩)-হুমায়ূন আহমেদ
খাবার সময়ও খুব যন্ত্রণা হল। করিম সাহেব প্লেটে ভাত তুলে দিচ্ছেন, তরকারী তুলে দিচ্ছেন। শওকত সাহেব বিরক্ত হয়ে বললেন, প্লীজ কিছু তুলে দেবেন না। যা দরকার আমি নিজে নেব। কেউ খাবার তুলে দিলে আমার খুব অস্বস্তি লাগে। ‘আপনিতাে স্যার কিছুই নিচ্ছেন না, মুরগীর বুকের গোশত একটু দিয়ে দেই। তিনি শুধু যে মুরগীর বুকের গােশত দিলেন তাই… Continue reading নীল অপরাজিতা-পর্ব-(৩)-হুমায়ূন আহমেদ
নীল অপরাজিতা-পর্ব-(২)-হুমায়ূন আহমেদ
‘স্যার কত দিন থাকবেন এখানে? “ঠিক করিনি। পনেরাে বিশ দিন থাকব। শুনলাম, নির্জনে একটা লেখা শেষ করার জন্য এসেছেন?” শওকত সাহেব দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন। নির্জনতার যে নমুনা শুরু হয়েছে খুব বেশী ভরসা করতে পারছেন না। স্যার পান খেলেন না ? ‘পন আমি খাই না। থ্যাংক ইউ। আমি বাইরে একটু দাড়াই। বাইরে দাঁড়ায়ে কি দেখবেন স্যার,… Continue reading নীল অপরাজিতা-পর্ব-(২)-হুমায়ূন আহমেদ
নীল অপরাজিতা-হুমায়ূন আহমেদ
১ তিনি ট্রেন থেকে নামলেন দুপুরবেলা। দুপুরবেলা বোঝার কোনো উপায় নেই। চারদিক অন্ধকার হয়ে আছে। আকাশ মেঘে মেঘে কালো। বৃষ্টি এখনো নামে নি, তবে যে কোনো মুহূর্তে নামবে বলে মনে হয়। আষাঢ় মাসে বৃষ্টিবাদলার কোনো ঠিক নেই। এই বৃষ্টি, এই রোদ। ময়মনসিংহ থেকে যখন ট্রেন ছাড়ল তখন আকাশ ছিল পরিষ্কার। জানালার ওপাশে ঝকঝকে রোদ। তিন… Continue reading নীল অপরাজিতা-হুমায়ূন আহমেদ
মেঘদূত – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
জ্যৈষ্ঠ মাসের অপরাহ্নে ব্রতীন মাঠ ভাঙিয়া গ্রামের দিকে চলিয়াছিল। সূর্য প্রায় অস্তোন্মুখ হইয়াছে বটে কিন্তু তাহার চোখের রক্ত-রাঙা ক্রোধ এখনও নিভিয়া যায় নাই।রৌদ্রে পোড়া চারণভূমি; ঘাস যে দুচার গাছি ছিল জ্বলিয়া খড় হইয়া গিয়াছে। মাঠে জনপ্রাণী নাই। সম্মুখে প্রায় মাইলখানেক দূরে গ্রামের খোড়ো ঘরগুলি দিগন্তরেখাকে একটু অসমতল করিয়া দিয়াছে। তাহারই কাছাকাছি একটা নিঃসঙ্গ তালগাছ শূন্যে… Continue reading মেঘদূত – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
কিছু শৈশব-পর্ব-(শেষ)-হুমায়ূন আহমেদ
আমি আজ আর কিছুতেই থাকিব না। লােকের কাছে কী করিয়া মুখ দেখাইব ? হাসনেবাবু, জয়নাব, সাহরে বানু এই তিনজনই আজ আমার নাম করিয়া অনেক কথা কহিয়াছে। দূর হইতে তাহাদের অঙ্গভঙ্গি ও মুখের ভাব দেখিয়াই আমি জানিয়াছি যে সকলেই সকল কথা জানিয়াছে। দাদির গুডবুকে আমার নাম উঠে গেল। এখন আমার দুষ্টমী তিনি দেখেও দেখেন না। একদিন কী… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(শেষ)-হুমায়ূন আহমেদ
কিছু শৈশব-পর্ব-(২৩)-হুমায়ূন আহমেদ
হালকা ধরনের কথাবার্তা–রসিকতা তাঁর একেবারেই পছন্দ না। নানাজান যদি হন আনন্দের ঈদ, দাদাজান শােকের মহররম। উনার চলে যাবার দিন ঘনিয়ে আসতেই আমরা খুশি। যাক, মুক্তির নিঃশ্বাস ফেলা যাবে।যাবার দিনের ঘটনা। সব শিশুর মুখে হাসি। দাদাজান রিকশার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। মালামাল তােলা হয়েছে, তিনি উঠছেন না। হঠাৎ তিনি ফুপিয়ে কাঁদতে শুরু করলেন। নাতি–নাতনিদের ছেড়ে যেতে তাঁর… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(২৩)-হুমায়ূন আহমেদ
কিছু শৈশব-পর্ব-(২২)-হুমায়ূন আহমেদ
বিশেষ কোনাে একটা বড় মাছের নাম বলুন। আমার সবচে’ পছন্দ ছােট মাছ। এইটা কী কথা বললেন ? কোনাে একটা বড় মাছের নাম বলেন। বাবা অনেক ভেবে টেবে বললেন, বােয়াল। বােয়াল মাছ তাে আপনাকে খাওয়াতে পারব না। বােয়াল জাতের মাছ না। জাতের মাছের নাম বলেন । রুই, কাতল, চিতলের মধ্যে বলেন। রুই মাছ। আলহামদুলিল্লাহ। তিনি উঠে… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(২২)-হুমায়ূন আহমেদ