ঈদের নামাজের সময়ও দেখেছি শিশুদেরকে কষ্ট দেয়া হয়। বাবার পাশে নামাজ পড়তে দাঁড়ালাম। চারদিকে এত মানুষ, ভয় ভয় লাগছে । হঠাৎ মওলানা সাহেব ঘােষণা করলেন, বড়দের মাঝে বাচ্চারা থাকলে নামাজের ক্ষতি। বাচ্চাদের পেছনে যেতে হবে। অনেক বাচ্চা বাবাকে ধরে শুরু করে কান্না। বাবারাও বিব্রত, কী করবেন বুঝতে পারছেন না। প্রসঙ্গক্রমে বলি, নবীজীর (দ.) প্রথম জীবনীকার… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(২১)-হুমায়ূন আহমেদ
Author: Admin
হাজারি খুঁড়ির টাকা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
গ্রামের মধ্যে বাবা ছিলেন মাতব্বর।…………..আমাদের মস্ত বড়ো চণ্ডীমণ্ডপে সকালবেলা কত লোক আসত—কেউ মামলা মেটাতে, কেউ কারো নামে নালিশ করতে, কেউ শুধু তামাক খেতে খোশগল্প করতে। হিন্দু-মুসলমান দুই-ই। উৎপীড়িত লোকে আসত আশ্রয় খুঁজতে। আমরা বসে বসে পড়ি হীরুঠাকুরের কাছে। হীরুঠাকুর আমাদের বাড়ি থাকে খায়। পাগল-মতো বামুন, বড্ড বকে—আর কেবল বলবে—ও নেড়া, একটু কুলচুর নিয়ে এসো তো… Continue reading হাজারি খুঁড়ির টাকা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
কিছু শৈশব-পর্ব-(২০)-হুমায়ূন আহমেদ
কী আশ্চর্য! মামিকে বলতেই তিনি চট করে উঠে দাঁড়ালেন । সাথে সাথে রওনা হলে গেলেন। তাঁকে দেখে মনে হলাে তিনি জীবনে এত আনন্দিত হন নি। বড়দের কাণ্ডকারখানা বােঝা খুব মুশকিল। আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে পর্দা সরিয়ে কী হয় দেখছি। মামি ঢুকলেন ফেঁপাতে ফোঁপাতে। মামা তাঁর হাতে ফুলগুলাে দিতেই তিনি শব্দ করে কেঁদে উঠলেন, ফুলগুলাে ছুড়ে… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(২০)-হুমায়ূন আহমেদ
কিছু শৈশব-পর্ব-(১৯)-হুমায়ূন আহমেদ
মামি সত্যি সত্যি চলে গেলেন। মা এবং বাবা অনেক বুঝিয়েও তাঁকে রাখতে পারলেন না। শত্রুপক্ষ চলে যাওয়ায় আমার খুশি হওয়া উচিত, কিন্তু সত্যি কথা বলতে কী, আমার মন খুব খারাপ হয়ে গেল। চোখে পানি এসে গেল। তবু এমন ভাব করলাম যেন খুব খুশি হয়েছি। রাতে বড়মামার ঘরে গিয়েছি। মামা বললেন, এবার নিশ্চিন্ত মনে লেখালেখি করা… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(১৯)-হুমায়ূন আহমেদ
কিছু শৈশব-পর্ব-(১৮)-হুমায়ূন আহমেদ
মামি : পড়াশােনা করা কি খারাপ? বড় মামা : পুঁথিগত পড়াশােনা করা খুব খারাপ। প্রতিভাবান মানুষেরা কখনাে পাঠ্যবই পড়ে না। মামি ; তােমাকে কে বলেছে? বড় মামা : বলাবলির তাে কিছু নেই— সবাই জানে। পাঠ্যবই থেকে শেখার কিছু নেই। মামি খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাৎ বললেন, আমাকে তুমি এত অপছন্দ করাে কেন ? বড়মামা বললেন, শুধু তােমাকে… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(১৮)-হুমায়ূন আহমেদ
কিছু শৈশব-পর্ব-(১৭)-হুমায়ূন আহমেদ
নতুন প্রহসনে হাত দিয়েছি প্রহসন লেখা কোনাে খেলা কথা না। প্রহসন লিখতে গিয়ে মাইকেল মধুসূদনের মতাে লােকের মাথার চুল পেকে গিয়েছিল। শেষে কলপ দিয়ে রক্ষা। যা তাের মামিকে বলে আয় যেন আমার ঘরে না আসে। আচ্ছা বলছি। আর শােন, খাতির জমাবার চেষ্টা করবি না। খেয়াল রাখবি ও হচ্ছে শত্রুপক্ষ। ও অবশ্যি তােদের হাত করার চেষ্টা… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(১৭)-হুমায়ূন আহমেদ
কিছু শৈশব-পর্ব-(১৬)-হুমায়ূন আহমেদ
একটা সাহসী কুকুর পানিতে নেমে সাঁতরে মামার দিকে খানিকটা গিয়ে ভয় পেয়ে ফিরে এলাে। মামার জন্যে আমাদের দুঃখের সীমা রইল না । আহা বেচারা! বড়মামা আমাদের শােকসাগরে ভাসিয়ে পরদিন ভােরে ঠিক দু’টায় নানাজানের সঙ্গে হাঁটাপথে ময়মনসিংহ রওনা হয়ে গেলেন। বকুল আপা খুব কাঁদতে লাগল । বড় মামার জন্যে তার খুব মায়া। তার ধারণা, বড় মামা… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(১৬)-হুমায়ূন আহমেদ
কিছু শৈশব-পর্ব-(১৫)-হুমায়ূন আহমেদ
এই বলে রাজকুমারী ব্যাকুল হয়ে কাঁদতে থাকবেন। তখন দস্যুসর্দার ভীম নাগ খােলা তরবারি হাতে প্রবেশ করবে। আমার হচ্ছে দস্যু ভীম নাগের পার্ট। আমি রাজকুমারীর কাছে গিয়ে থমকে দাঁড়াব। কর্কশ গলায় বলব— ভীম নাগ : কে তুমি কাঁদিছ বসি বনপ্রান্তে একা বেশভূষা চমক্কার যাইতেছে দেখা। চক্ষে অশ্রু জল। কী তার কারণ অতি সত্বর করহ বর্ণন ॥ পুরােদমে… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(১৫)-হুমায়ূন আহমেদ
কিছু শৈশব-পর্ব-(১৪)-হুমায়ূন আহমেদ
গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে সে তখন সঙ্গীতের প্রবল আবেগে উচ্ছ্বসিত হয়ে গান ধরে। এই গান সে গায় নিজস্ব ভঙ্গিতে । সবাই অবশ্য বিরক্ত হয়। এটা কোনাে বড় কথা নয় । বড় কথা হলাে— গাধার সঙ্গীতপিপাসু মন ।। এখন তােরা বুঝলি তাে ? গাধা বললে রাগ করার কোনাে কারণ নেই, বরং আনন্দে উল্লসিত হবার… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(১৪)-হুমায়ূন আহমেদ
কিছু শৈশব-পর্ব-(১৩)-হুমায়ূন আহমেদ
তিনি প্রথম চিঠি লিখলেন লায়লা খালার ছােট বােনটিকে। ইনার নাম আমার মনে নেই। এই দুইবােন আমাদের পাশের বাড়িতে থাকতেন। তাদের বাবা কৃষি কর্মকর্তা ছিলেন। চিঠিটি সেই তরুণী রাগী রাগী মুখে নিল। চিঠি পড়ে বলল, কাজল, চিঠি আনা–আনির কাজ আর কখনাে করবে না। এইসব ভালাে না। আরেকবার যদি চিঠি আন থাপ্পড় খাবে। আমি ফিরে এলাম। বড়মামা… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(১৩)-হুমায়ূন আহমেদ