মতিন সাহেবের মনে হল মিতুর কথাই হয়ত সত্যি – লােকটি মরে গেছে। ক্যাসেটে গান হচ্ছে। মতিন সাহেব মন দিয়ে গানের কথা শুনতে লাগলেন। কোন কিছুতে নিজেকে ব্যস্ত রাখা। “সকাতরে ঐ কাঁদিছে সকলে, শােনাে শােনাে পিতা কহাে কানে কানে শুনাও প্রাণে প্রাণে মঙ্গল বারতা। ক্ষুদ্র আশা নিয়ে রয়েছে বাঁচিয়ে সদাই ভাবনা যা কিছু পায় হারায়ে যায়,… Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(২)-হুমায়ুন আহমেদ
দুই দুয়ারী-পর্ব-(১)-হুমায়ুন আহমেদ
আমি প্রায়ই কিছু অদ্ভুত চরিত্র নিয়ে ভাবি। এমন কিছু চরিত্র যাদের কখনো কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। অবশ্য এ ধরনের চরিত্র নিয়ে কিছু লিখতে ভরসা হয় না। কারণ আমি জানি লেখা মাত্র আমাকে অসংখ্য প্রশ্নের মুখােমুখি হতে হবে। পাঠক পাঠিকা জানতে চাইবেন, “লােকটা কে?” “সে কোত্থেকে এসেছে?” “ব্যাপারটা কি?” “কি হচ্ছে ?” আমি এসব প্রশ্নের… Continue reading দুই দুয়ারী-পর্ব-(১)-হুমায়ুন আহমেদ
দেবী উপন্যাস – শেষ পর্ব-হুমায়ুন আহমেদ
নীলুর বাবার সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেই তার কথা হয়েছে। ভদ্রলােক জিজ্ঞেস করেছেন, “কি, এত দেরি যে?‘ যার মেয়ের এত বড় বিপদ, সে এ রকম স্বাভাবিক থাকবে কী করে? আনিস বলল, ‘ওরা তাে কিছু বলল না!‘ ‘ওরা কিছু জানে না। আমি জানি, বিশ্বাস কর—আমি জানি। ‘আমাকে কী করতে বল? ‘আমি বুঝতে পারছি না। আমি কিছু বুঝতে পারছি… Continue reading দেবী উপন্যাস – শেষ পর্ব-হুমায়ুন আহমেদ
দেবী উপন্যাস -পর্ব-(২৩)-হুমায়ুন আহমেদ
জিতু ফিরে এসে জানাল, এখনও আসে নি। রানু একটি নিঃশ্বাস ফেলে ঘড়ি দেখল, আটটা বাজতে চার মিনিট বাকি। কখন আসবে আনিস? সারাটা পথ নীলু চুপ করে রইল। এক বার সে বলল, কী ব্যাপার, এত চুপচাপ যে?‘ নীলু তারও জবাব দিল না। তার কথা বলতে ইচ্ছা হচ্ছে না। সে আছে একটা ঘােরের মধ্যে । গান শুনবে?… Continue reading দেবী উপন্যাস -পর্ব-(২৩)-হুমায়ুন আহমেদ
দেবী উপন্যাস -পর্ব-(২২)-হুমায়ুন আহমেদ
নীলু জবাব দিল না। “বল, ঠিক না?” হ্যা।‘ তােমাকে প্রথম দিন দেখেই…‘ সে চুপ করে গেল। নীলুর চোখে জল এল। নীলু, আজ যদি তােমাকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই, তাহলে তােমার আপত্তি আছে?” নীলু ছােট্ট একটি নিঃশ্বাস ফেলল । জবাব দিল না। সে মুখ ঘুরিয়ে বসেছিল। সে তার চোখের জল তাকে… Continue reading দেবী উপন্যাস -পর্ব-(২২)-হুমায়ুন আহমেদ
দেবী উপন্যাস -পর্ব-(২১)-হুমায়ুন আহমেদ
আমার বিয়ে হয়েছিল শ্রাবণ মাসের ছ’ তারিখে। ঘটনাটা ঘটল শ্রাবণ মাসের চোদ্দ তারিখ। সকালবেলা আমার এক মামাশ্বশুর এসে ওকে নিয়ে গেলেন মাছ মারতে। নৌকায় করে মাছ মারা হবে। নৌকা বড় গাঙ দিয়ে যাবে সােনাপােতার বিলে। বঁড়শি ফেললেই সেখানে বড়–বড় বােয়াল মাছ পাওয়া যায়। বর্ষাকালে বােয়ালের কোনাে স্বাদ নেই জানেন তাে? কিন্তু সােনাপােতার বােয়ালে বর্ষাকালেই নাকি… Continue reading দেবী উপন্যাস -পর্ব-(২১)-হুমায়ুন আহমেদ
দেবী উপন্যাস -পর্ব-(২০)-হুমায়ুন আহমেদ
লােকটি জড়সড় হয়ে বসে আছে। মিসির আলি লক্ষ্য করলেন, তার চোখের নিচে কালি পড়েছে। তার মানে রাতে ঘুমাতে পারছে না। এ রকম হওয়ার কথা নয়। মিসির আলি চিন্তিত মুখে ভেতরে ঢুকলেন। তার ফিরে আসতে অনেক সময় লাগল। এখন বলেন, ব্যাপারটা কী? আনিস ইতস্তত করে বলল, ভূতপ্রেত বলে সত্যি কিছু আছে?” ‘এই কথা জিজ্ঞেস করছেন কেন?‘ … Continue reading দেবী উপন্যাস -পর্ব-(২০)-হুমায়ুন আহমেদ
দেবী উপন্যাস -পর্ব-(১৯)-হুমায়ুন আহমেদ
‘গুড়। আমি কিন্তু শুধু তােমার চিঠির জবাব দিয়েছি। অন্য কারাের চিঠির জবাব দিই নি। আমার কথা বিশ্বাস করছ তাে?‘ করছি।‘ বেয়ারা চায়ের পট দিয়ে গেল। ছেলেটি বলল, ‘দাও, আমি চা বানিয়ে দিচ্ছি। ঘরে বানাবে মেয়েরা, কিন্তু বাইরে পুরুষেরা—এ–ই নিয়ম। নীলু লক্ষ্য করল, ছেলেটি তার কাপে তিন চামচ চিনি দিয়েছে। নীলু এক বার লিখেছে সে চায়ে… Continue reading দেবী উপন্যাস -পর্ব-(১৯)-হুমায়ুন আহমেদ
দেবী উপন্যাস -পর্ব-(১৮)-হুমায়ুন আহমেদ
পালরা অত্যন্ত ক্ষমতাবান ছিল। কাজেই ছাড়া পেয়ে এক সময় আবার গ্রামে ফিরে আসে, কিন্তু মন্দির তালাবন্ধই পড়ে থাকে। ইতিহাস এইটুকুই। মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত মূর্তি সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা গেল। দুই–এক ঘর নিম্নবর্ণের হিন্দু যারা ছিল, তারা বিশেষ কিছু বলতে পারে না। হরিশ মণ্ডল বলল, ‘বাবু, আমরা কেউ ঐ দিকে যাই না। ঐ মন্দিরে গেলে নির্বংশ হতে… Continue reading দেবী উপন্যাস -পর্ব-(১৮)-হুমায়ুন আহমেদ
দেবী উপন্যাস -পর্ব-(১৭)-হুমায়ুন আহমেদ
জিতু মাথা নাড়ল। কী স্বপ্ন?’ ‘এক জন মাইয়া মানুষ পাকের ঘরে হাঁটতে আছিল। ‘এই দেখেছিস স্বপ্নে?’ ‘স্বপ্নে দেখি নাই। নিজের চোখে দেখলাম। ‘দূর ব্যাটা, অন্ধকারে তুই মানুষ দেখলি কীভাবে? যা, ঘুমাে।‘ জিতু শুয়ে পড়ল। আনিস বলল, ভয়ের কিছু নেই, আমি জেগে আছি, ঘুমাে ‘আচ্ছা। আর শােন, রান্নাঘরে বাতি জ্বালানাে থাকুক। “আচ্ছা।‘ জিতু শুয়ে পড়ল। কিছুক্ষণের… Continue reading দেবী উপন্যাস -পর্ব-(১৭)-হুমায়ুন আহমেদ