নীল অপরাজিতা-হুমায়ূন আহমেদ

১ তিনি ট্রেন থেকে নামলেন দুপুরবেলা। দুপুরবেলা বোঝার কোনো উপায় নেই। চারদিক অন্ধকার হয়ে আছে। আকাশ মেঘে মেঘে কালো। বৃষ্টি এখনো নামে নি, তবে যে কোনো মুহূর্তে নামবে বলে মনে হয়। আষাঢ় মাসে বৃষ্টিবাদলার কোনো ঠিক নেই। এই বৃষ্টি, এই রোদ। ময়মনসিংহ থেকে যখন ট্রেন ছাড়ল তখন আকাশ ছিল পরিষ্কার। জানালার ওপাশে ঝকঝকে রোদ। তিন… Continue reading নীল অপরাজিতা-হুমায়ূন আহমেদ

মেঘদূত – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

জ্যৈষ্ঠ মাসের অপরাহ্নে ব্রতীন মাঠ ভাঙিয়া গ্রামের দিকে চলিয়াছিল। সূর্য প্রায় অস্তোন্মুখ হইয়াছে বটে কিন্তু তাহার চোখের রক্ত-রাঙা ক্রোধ এখনও নিভিয়া যায় নাই।রৌদ্রে পোড়া চারণভূমি; ঘাস যে দুচার গাছি ছিল জ্বলিয়া খড় হইয়া গিয়াছে। মাঠে জনপ্রাণী নাই। সম্মুখে প্রায় মাইলখানেক দূরে গ্রামের খোড়ো ঘরগুলি দিগন্তরেখাকে একটু অসমতল করিয়া দিয়াছে। তাহারই কাছাকাছি একটা নিঃসঙ্গ তালগাছ শূন্যে… Continue reading মেঘদূত – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

কিছু শৈশব-পর্ব-(শেষ)-হুমায়ূন আহমেদ

আমি আজ আর কিছুতেই থাকিব না। লােকের কাছে কী করিয়া মুখ দেখাইব ? হাসনেবাবু, জয়নাব, সাহরে বানু এই তিনজনই আজ আমার নাম করিয়া অনেক কথা কহিয়াছে। দূর হইতে তাহাদের অঙ্গভঙ্গি ও মুখের ভাব দেখিয়াই আমি জানিয়াছি যে সকলেই সকল কথা জানিয়াছে। দাদির গুডবুকে আমার নাম উঠে গেল। এখন আমার দুষ্টমী তিনি দেখেও দেখেন না। একদিন কী… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(শেষ)-হুমায়ূন আহমেদ

কিছু শৈশব-পর্ব-(২৩)-হুমায়ূন আহমেদ

হালকা ধরনের কথাবার্তা–রসিকতা তাঁর একেবারেই পছন্দ না। নানাজান যদি হন আনন্দের ঈদ, দাদাজান শােকের মহররম।  উনার চলে যাবার দিন ঘনিয়ে আসতেই আমরা খুশি। যাক, মুক্তির নিঃশ্বাস ফেলা যাবে।যাবার দিনের ঘটনা। সব শিশুর মুখে হাসি। দাদাজান রিকশার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। মালামাল তােলা হয়েছে, তিনি উঠছেন না। হঠাৎ তিনি ফুপিয়ে কাঁদতে শুরু করলেন। নাতি–নাতনিদের ছেড়ে যেতে তাঁর… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(২৩)-হুমায়ূন আহমেদ

কিছু শৈশব-পর্ব-(২২)-হুমায়ূন আহমেদ

বিশেষ কোনাে একটা বড় মাছের নাম বলুন। আমার সবচে’ পছন্দ ছােট মাছ। এইটা কী কথা বললেন ? কোনাে একটা বড় মাছের নাম বলেন। বাবা অনেক ভেবে টেবে বললেন, বােয়াল। বােয়াল মাছ তাে আপনাকে খাওয়াতে পারব না। বােয়াল জাতের মাছ না। জাতের মাছের নাম বলেন । রুই, কাতল, চিতলের মধ্যে বলেন।  রুই মাছ। আলহামদুলিল্লাহ।  তিনি উঠে… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(২২)-হুমায়ূন আহমেদ

কিছু শৈশব-পর্ব-(২১)-হুমায়ূন আহমেদ

ঈদের নামাজের সময়ও দেখেছি শিশুদেরকে কষ্ট দেয়া হয়। বাবার পাশে নামাজ পড়তে দাঁড়ালাম। চারদিকে এত মানুষ, ভয় ভয় লাগছে । হঠাৎ মওলানা সাহেব ঘােষণা করলেন, বড়দের মাঝে বাচ্চারা থাকলে নামাজের ক্ষতি। বাচ্চাদের পেছনে যেতে হবে। অনেক বাচ্চা বাবাকে ধরে শুরু করে কান্না। বাবারাও বিব্রত, কী করবেন বুঝতে পারছেন না।  প্রসঙ্গক্রমে বলি, নবীজীর (দ.) প্রথম জীবনীকার… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(২১)-হুমায়ূন আহমেদ

হাজারি খুঁড়ির টাকা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

গ্রামের মধ্যে বাবা ছিলেন মাতব্বর।…………..আমাদের মস্ত বড়ো চণ্ডীমণ্ডপে সকালবেলা কত লোক আসত—কেউ মামলা মেটাতে, কেউ কারো নামে নালিশ করতে, কেউ শুধু তামাক খেতে খোশগল্প করতে। হিন্দু-মুসলমান দুই-ই। উৎপীড়িত লোকে আসত আশ্রয় খুঁজতে। আমরা বসে বসে পড়ি হীরুঠাকুরের কাছে। হীরুঠাকুর আমাদের বাড়ি থাকে খায়। পাগল-মতো বামুন, বড্ড বকে—আর কেবল বলবে—ও নেড়া, একটু কুলচুর নিয়ে এসো তো… Continue reading হাজারি খুঁড়ির টাকা – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

কিছু শৈশব-পর্ব-(২০)-হুমায়ূন আহমেদ

কী আশ্চর্য! মামিকে বলতেই তিনি চট করে উঠে দাঁড়ালেন । সাথে সাথে রওনা হলে গেলেন। তাঁকে দেখে মনে হলাে তিনি জীবনে এত আনন্দিত হন নি। বড়দের কাণ্ডকারখানা বােঝা খুব মুশকিল।  আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে পর্দা সরিয়ে কী হয় দেখছি।  মামি ঢুকলেন ফেঁপাতে ফোঁপাতে। মামা তাঁর হাতে ফুলগুলাে দিতেই তিনি শব্দ করে কেঁদে উঠলেন, ফুলগুলাে ছুড়ে… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(২০)-হুমায়ূন আহমেদ

কিছু শৈশব-পর্ব-(১৯)-হুমায়ূন আহমেদ

মামি সত্যি সত্যি চলে গেলেন। মা এবং বাবা অনেক বুঝিয়েও তাঁকে রাখতে পারলেন না। শত্রুপক্ষ চলে যাওয়ায় আমার খুশি হওয়া উচিত, কিন্তু সত্যি কথা বলতে কী, আমার মন খুব খারাপ হয়ে গেল। চোখে পানি এসে গেল। তবু এমন ভাব করলাম যেন খুব খুশি হয়েছি।  রাতে বড়মামার ঘরে গিয়েছি। মামা বললেন, এবার নিশ্চিন্ত মনে লেখালেখি করা… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(১৯)-হুমায়ূন আহমেদ

কিছু শৈশব-পর্ব-(১৮)-হুমায়ূন আহমেদ

 মামি : পড়াশােনা করা কি খারাপ? বড় মামা : পুঁথিগত পড়াশােনা করা খুব খারাপ। প্রতিভাবান মানুষেরা কখনাে পাঠ্যবই পড়ে না। মামি ; তােমাকে কে বলেছে? বড় মামা : বলাবলির তাে কিছু নেই— সবাই জানে। পাঠ্যবই থেকে শেখার কিছু নেই। মামি খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাৎ বললেন, আমাকে তুমি এত অপছন্দ করাে কেন ?  বড়মামা বললেন, শুধু তােমাকে… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(১৮)-হুমায়ূন আহমেদ