সোনার ঘোড়া – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

তিনটে খরগোশ তুরতুর করে মাটি ভাঙে চিনাবাদামের খেতে। মাটি উলটে বের করে বাদাম। সামনের দুই থাবায় ধরে কুটকুট করে খায়। তাদের কান নড়ে আনন্দে।ভুট্টা খেতের ভিতরে ঝুঁঝকো আঁধার। সেইখানে সরসর করে শব্দ হয়। দুটি শিশু কচি ভুট্টা ঘেঁড়ে, খোলস আর রোঁয়া সরিয়ে দাঁত বসায়। দানা ফেটে উছলে ওঠে ভুট্টার দুধ। স্বাদে তাদের মুখ ভরে যায়।… Continue reading সোনার ঘোড়া – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

কিছু শৈশব-পর্ব-(১২)-হুমায়ূন আহমেদ

আমার এবং শাওনের দুঃসময়ে দেশের এবং দেশের মানুষের যে সমবেদনা পেয়েছি তার কোনাে তুলনা নেই। আমি ধন্য। শাওন ধন্য। আমার ভাইবােনরা কেউ সামান্য একটা টেলিফোনও করল না— এই দুঃখবােধ আমৃত্যু আমার সঙ্গে থাকবে।  পরকালে আমার কন্যা লীলাবতী যখন তার চাচা এবং ফুপুদের জিজ্ঞেস করবে, আমার বাবা যখন ঘরের সব দরজা–জানালা বন্ধ করে একা একা কাঁদছিল,… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(১২)-হুমায়ূন আহমেদ

কিছু শৈশব-পর্ব-(১১)-হুমায়ূন আহমেদ

পুলিশের চাকরির কারণে বাবা রেশন পেতেন। ভাত–ডালের ব্যবস্থা হতাে। বাকি খরচ কোথেকে আসবে! পুলিশের রেশনে কাপড় দেয় না। মা’কে তাকিয়ে থাকতে হতাে তার বাবার দিকে । উনি প্রায়ই কন্যার শাড়ি কিনে পাঠাতেন।  স্বামী–স্ত্রীর নিখাদ ভালােবাসায় সংসার অতি সুখের হয় এই ধারণা ভুল। সংসার সুখের হতে হলে কিছু অর্থের অবশ্যই প্রয়ােজন হয়।  আমার মায়ের নিশ্চয়ই ইচ্ছা… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(১১)-হুমায়ূন আহমেদ

কিছু শৈশব-পর্ব-(১০)-হুমায়ূন আহমেদ

এখন দুই ছােট গােল্লার ভেতর দুটা ফোটা দাও। তারপর দেখ কী হয়েছে।  আমি অবাক হয়ে দেখলাম একটা বালকের মুখ আঁকা হয়েছে যে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে।  কার্টুনিস্ট আমার হাত থেকে কাগজটা নিয়ে দ্রুত কয়েকটা টান দিলেন। বালকের মুখ হয়ে গেল বিড়ালের মুখ। বিড়ালটা লেজ উঁচু করে বসে আছে।  আমার বিস্ময়ের সীমা রইল না।… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(১০)-হুমায়ূন আহমেদ

কিছু শৈশব-পর্ব-(৯)-হুমায়ূন আহমেদ

তার জন্যে সাগু কিনে আনতে হবে। কিন্তু ছেলের বাবা কবিতার খাতা নিয়ে বসেছেন। গভীর ভাবাবেগে তাঁর চোখে জল। লিখছেন ‘একদা জ্যোৎস্নায় নামের দীর্ঘ কোনাে রচনা। কেন কিছু কিছু মানুষ এমন নিশি–পাওয়া হয় ? দুঃখ কষ্ট, হতাশা–বঞ্চনা কিছুই তাদের স্পর্শ করে না। স্বর্গীয় কোনাে একটি হিংস্র পশু তাদের তাড়া করে ফিরে । কেন করে ? আমার… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(৯)-হুমায়ূন আহমেদ

কিছু শৈশব-পর্ব-(৮)-হুমায়ূন আহমেদ

তবুও অভ্যাসবশেই পাতা উল্টালাম। এবং একসময় দেখি গ্রন্থকারের লেখা ভূমিকাটি পড়তে শুরু করেছি। শুরু না করলেই বােধহয় ভালাে ছিল। ভূমিকাটিতে খুব মন খারাপ করা একটি ব্যাপার আছে। আমার নিজের যথেষ্ট দুঃখ–কষ্ট আছে, অনাের দুঃখ–কষ্ট আর ছুঁতে ইচ্ছে করে না। গ্রন্থকার লিখেছেন, ‘দীর্ঘ পাঁচ বছর পূর্বে ‘রিক্তশ্রী পৃথিবীর পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করি। সেই সময় আমার অতি আদরের… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(৮)-হুমায়ূন আহমেদ

কিছু শৈশব-পর্ব-(৭)-হুমায়ূন আহমেদ

লেখালেখিতে উৎসাহী করার জন্যে প্রতি বছরই তিনি তার সব ছেলেমেয়েকে একটা করে ডায়েরি দিতেন। আমাদের দায়িত্ব ছিল, ডায়েরি ভর্তি করে গল্প–কবিতা লিখতে হবে।  একটা ঘটনা বলি। আমার সর্বকনিষ্ঠ ভাই আহসান হাবীব তার ডায়েরিতে একটা কবিতা লিখে বাবার কাছে জমা দিল। কবিতার শিরােনাম ‘জিনিশ তুলিবে।  জিনিশ তুলিবে। জিনিশ পাইলে তুলিবে তুলিবে তুলিবে তুলিবে যদি না তুলিবে… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(৭)-হুমায়ূন আহমেদ

কিছু শৈশব-পর্ব-(৬)-হুমায়ূন আহমেদ

বিভিন্ন পীর–ফকির এসে এই মহিলাকে ঝাড়তাে। ফকিরের ঝাড়ার একটা দৃশ্য এখনাে মনে আছে। মহিলাকে বসানাে হয়েছে ভেতরের উঠোনের এক চৌকিতে । তিনি বিরাট ঘােমটা টেনে মাথা নিচু করে বসে আছেন। তাঁর সামনে ফকির সাহেব একটা শলার ঝাড় হাতে দাঁড়ানাে। ফকির সাহেবের মুখভর্তি দাড়ি। কুস্তিগিরের মতাে বলশালী শরীর। ফকির সাহেব যখন মন্ত্র পড়ে ফুঁ দেন তখন… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(৬)-হুমায়ূন আহমেদ

কিছু শৈশব-পর্ব-(৫)-হুমায়ূন আহমেদ

আমাদের এই নেতা আরাে নতুন নতুন খেলা বার করার আগেই হঠাৎ একদিন উধাও হয়ে গেল। আমরা বিরাট ধাঁধায় পড়ে গেলাম । যে বাড়ি থেকে সে আসত (পুকুরপাড়ের এক টিনের বাড়ি) সেই বাড়ি তালাবন্ধ। এই বাড়ি দীর্ঘদিন তালাবন্ধ থাকল। একসময় তালায় জং ধরল । টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে তাকালে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে ঘাস গজিয়েছে। আমি… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(৫)-হুমায়ূন আহমেদ

কিছু শৈশব-পর্ব-(৪)-হুমায়ূন আহমেদ

তখনকার বাজার একটু অন্যরকম ছিল। আজকাল যেমন মাছ–সবজি এক ব্যাগে থাকে তখন তা করা হতাে না। মাছের আঁশটে গন্ধ যেন অন্য কিছুতে না লাগে তার ব্যবস্থা করা হতাে। মাছ দড়িতে ঝুলিয়ে এক হাতে নেয়া হতাে, অন্য হাতে আনাজের ব্যাগ। সেই ভদ্রলােক মাছ হাতে ঝুলিয়ে অন্য হাতে ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছেন। হঠাৎ আমার সেই বন্ধু উল্কার বেগে… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(৪)-হুমায়ূন আহমেদ