তবুও অভ্যাসবশেই পাতা উল্টালাম। এবং একসময় দেখি গ্রন্থকারের লেখা ভূমিকাটি পড়তে শুরু করেছি। শুরু না করলেই বােধহয় ভালাে ছিল। ভূমিকাটিতে খুব মন খারাপ করা একটি ব্যাপার আছে। আমার নিজের যথেষ্ট দুঃখ–কষ্ট আছে, অনাের দুঃখ–কষ্ট আর ছুঁতে ইচ্ছে করে না। গ্রন্থকার লিখেছেন, ‘দীর্ঘ পাঁচ বছর পূর্বে ‘রিক্তশ্রী পৃথিবীর পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করি। সেই সময় আমার অতি আদরের… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(৮)-হুমায়ূন আহমেদ
Category: শিল্প-ও-সাহিত্য
কিছু শৈশব-পর্ব-(৭)-হুমায়ূন আহমেদ
লেখালেখিতে উৎসাহী করার জন্যে প্রতি বছরই তিনি তার সব ছেলেমেয়েকে একটা করে ডায়েরি দিতেন। আমাদের দায়িত্ব ছিল, ডায়েরি ভর্তি করে গল্প–কবিতা লিখতে হবে। একটা ঘটনা বলি। আমার সর্বকনিষ্ঠ ভাই আহসান হাবীব তার ডায়েরিতে একটা কবিতা লিখে বাবার কাছে জমা দিল। কবিতার শিরােনাম ‘জিনিশ তুলিবে। জিনিশ তুলিবে। জিনিশ পাইলে তুলিবে তুলিবে তুলিবে তুলিবে যদি না তুলিবে… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(৭)-হুমায়ূন আহমেদ
কিছু শৈশব-পর্ব-(৬)-হুমায়ূন আহমেদ
বিভিন্ন পীর–ফকির এসে এই মহিলাকে ঝাড়তাে। ফকিরের ঝাড়ার একটা দৃশ্য এখনাে মনে আছে। মহিলাকে বসানাে হয়েছে ভেতরের উঠোনের এক চৌকিতে । তিনি বিরাট ঘােমটা টেনে মাথা নিচু করে বসে আছেন। তাঁর সামনে ফকির সাহেব একটা শলার ঝাড় হাতে দাঁড়ানাে। ফকির সাহেবের মুখভর্তি দাড়ি। কুস্তিগিরের মতাে বলশালী শরীর। ফকির সাহেব যখন মন্ত্র পড়ে ফুঁ দেন তখন… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(৬)-হুমায়ূন আহমেদ
কিছু শৈশব-পর্ব-(৫)-হুমায়ূন আহমেদ
আমাদের এই নেতা আরাে নতুন নতুন খেলা বার করার আগেই হঠাৎ একদিন উধাও হয়ে গেল। আমরা বিরাট ধাঁধায় পড়ে গেলাম । যে বাড়ি থেকে সে আসত (পুকুরপাড়ের এক টিনের বাড়ি) সেই বাড়ি তালাবন্ধ। এই বাড়ি দীর্ঘদিন তালাবন্ধ থাকল। একসময় তালায় জং ধরল । টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে তাকালে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে ঘাস গজিয়েছে। আমি… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(৫)-হুমায়ূন আহমেদ
কিছু শৈশব-পর্ব-(৪)-হুমায়ূন আহমেদ
তখনকার বাজার একটু অন্যরকম ছিল। আজকাল যেমন মাছ–সবজি এক ব্যাগে থাকে তখন তা করা হতাে না। মাছের আঁশটে গন্ধ যেন অন্য কিছুতে না লাগে তার ব্যবস্থা করা হতাে। মাছ দড়িতে ঝুলিয়ে এক হাতে নেয়া হতাে, অন্য হাতে আনাজের ব্যাগ। সেই ভদ্রলােক মাছ হাতে ঝুলিয়ে অন্য হাতে ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছেন। হঠাৎ আমার সেই বন্ধু উল্কার বেগে… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(৪)-হুমায়ূন আহমেদ
কিছু শৈশব-পর্ব-(৩)-হুমায়ূন আহমেদ
মার্বেলের কাছাকাছি আরেকটা খেলা ছিল, চাড়া খেলা নাম । সাতটা মাটির বাসন ভাঙা চাড়া একের উপর এক সাজিয়ে দূর থেকে নিশানা করে মেরে সপ্তসৌধ ভেঙে দেয়া। এই খেলায় আমি মজা পেতাম না, কারণ আমার নিশানা ভালাে না । সিগারেটের খালি প্যাকেট দিয়ে একটা খেলা ছিল। চাড়া খেলারই অন্য ভার্সান। এই খেলায় টাকাপয়সা লেনদেন হতাে। টাকাপয়সা… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(৩)-হুমায়ূন আহমেদ
কিছু শৈশব-পর্ব-(২)-হুমায়ূন আহমেদ
আসাদুজ্জামান নূর সাহেবের কী একটা প্রােগ্রামে সিলেট গিয়েছি। সকাল থেকেই বৃষ্টি। আমি বের হলাম মীরাবাজারের খোঁজে। কোনাে কিছুই চিনতে পারলাম না। আমাদের বাসার সামনেই গরম পীরের মাজার নামে একটা মাজার ছিল সেটা পাওয়া গেল। কিন্তু কী আশ্চর্য পরিবর্তন! মাজারের পাশে ছােট্ট একটা গাছভর্তি টিলা ছিল। টিলা নেই। মাজারের একপাশে ফাকা মাঠ ছিল। মাঠ নেই। আমাদের… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(২)-হুমায়ূন আহমেদ
কিছু শৈশব-পর্ব-(১)-হুমায়ূন আহমেদ
ছয়–সাত বছরের একটি বালক জানালার শিক ধরে দাঁড়িয়ে আছে। সে বৃষ্টি দেখছে। সিলেটের বিখ্যাত বৃষ্টি। ফিনফিনে ইলসেড়ি না, ঝুম বৃষ্টি। এই বৃষ্টি এক নাগাড়ে সাতদিন পর্যন্ত চলতে পারে। ছেলেটি বৃষ্টি দেখছে তবে তার দৃষ্টিতে মুগ্ধতা নেই, বিস্ময়বােধ নেই, আছে দুঃখবােধ এবং হতাশা। তাকে সারাদিনের জন্যে আটকে রাখা হয়েছে। আজ সে ঘর থেকে বের হতে পারবে ।… Continue reading কিছু শৈশব-পর্ব-(১)-হুমায়ূন আহমেদ
আয়নার মানুষ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
শক্তপোক্ত মানুষ হলে কী হয়, গদাধর আসলে বড়ো হা-হয়রান লোক। তিন বিঘে পৈতৃক জমি চাষ করে তার কোনোক্রমে চলে, বাস্তুজমি মোটে বিঘেটাক। তাতে তার বউ শাকপাতা, লাউ-কুমড়ো ফলায়। দুঃখেকষ্টে চলে যাচ্ছিল কোনোক্রমে। কিন্তু পরানবাবুর নজরে পড়েই তার সর্বনাশ। পরানবাবু ভারি ভুলো মনের মানুষ। জামা পরেন তো ধুতি পরতে ভুলে যান, হাটে পাঠালে মাঠে গিয়ে বসে… Continue reading আয়নার মানুষ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
ঘ্যাঁঘাসুর – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
এক যে ছিল রাজা, তাঁর ছিল একটি মেয়ে। মেয়েটি, হইয়া অবধি খালি অসুখেই ভুগিতেছে। একটি দিনের জন্যেও ভাল থাকে না। কত বদ্যি, কত ডাক্তার, কত চিকিৎসা, কত ওষুধ-মেয়ে ভাল হইবে দূরে থাকুক, দিনি দিনই রোগা হইতেছে। এত ধন জন থাকিয়াও রাজার মনে সুখ নাই। কিসে মেয়েটি ভাল হইবে, তাঁহার কেবল সেই চিন্তা। এমনি করিয়া দিন… Continue reading ঘ্যাঁঘাসুর – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী